হ্যান্ড অব গডের কারিগর ম্যারাডোনার সমান্তরালে জাদুকর মেসি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বকাপ দেখল আরও একটি অবিশ্বাস্য ও জাদুকরী রাত। দিয়াগো ম্যারাডোনার চার দশক পুরোনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড ছুঁয়ে আর্জেন্টিনাকে এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন লিওনেল মেসি। মিসরের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এই রূপকথার জয়ের পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

উত্তর আমেরিকার মাটিতে চলমান এই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে একপর্যায়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর দুর্দান্ত গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ প্রায় নিজেদের পকেটে পুরে ফেলেছিল মিসর। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় এত দেরিতে দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকে এর আগে কোনো দল ম্যাচ জিততে পারেনি। কিন্তু এরপরই শুরু হয় আর্জেন্টিনার সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। প্রথমে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এক গোল শোধ করে ব্যবধান কমান। এরপর ম্যাচের ৮৩ মিনিটে জাদুকরী এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আর অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের বুলেট গতির হেড মিসরের রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে।

এই ম্যাচ জয়ের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন লিওনেল মেসি, যিনি মাঠের পারফরম্যান্সে ফিরিয়ে এনেছিলেন ১৯৮৬ সালের মারাদোনাকে। পরিসংখ্যানবিষয়ক সংস্থা অপটার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি অন্তত ৫টি ড্রিবলিং সম্পন্ন করা এবং ৫টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করার কীর্তি সর্বশেষ দেখিয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। দীর্ঘ ৪০ বছর পর মিসরের বিপক্ষে সেই একই কীর্তি গড়ে ফুটবল হ্যান্ড অব গড খ্যাত ম্যারাডোনার পাশে নিজের নাম লেখালেন মেসি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবায়েরের কাছে একটি পেনাল্টি মিস করলেও, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি মেসি। চাপের মুখে নিজেকে শান্ত রেখে দলকে পথ দেখিয়েছেন সামনে থেকে। এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল আটে। বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের আটটি গোল করার নজির ১৯৭০ সালের পর এই প্রথম। সেবার জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলার প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১০টি গোল করেছিলেন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা আবারও প্রমাণ করলেন, কঠিনতম মুহূর্তে কীভাবে একা হাতে পুরো দেশের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সুরের জাদুতে মিশরে মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা

» জুলাই নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

» ভবিষ্যতে জনগণ আর রাজনীতিবিদদের সম্মান করবে না: জামায়াত আমির

» বহিষ্কারের পরেও যদি কেউ অপকর্ম করে সে দায় যুবদলের নয় : যুবদল সভাপতি

» সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে মাদক নিয়ন্ত্রণ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব : খোকন

» সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় কাল

» আর্জেন্টিনার জয়ে শোবিজে উল্লাস: ‘জাদুকর যখন মাঠে, ভয়ের কী আছে’

» ভূমিধস : চীনের এক প্রদেশে মাটিচাপা ৩৩, উদ্ধার ২১ মরদেহ

» নিরপেক্ষ-অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে ইসি: নির্বাচন কমিশনার

» কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নানাইমো ড্রাগন বোট ফেস্টিভ্যাল বাতিল

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

হ্যান্ড অব গডের কারিগর ম্যারাডোনার সমান্তরালে জাদুকর মেসি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বকাপ দেখল আরও একটি অবিশ্বাস্য ও জাদুকরী রাত। দিয়াগো ম্যারাডোনার চার দশক পুরোনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড ছুঁয়ে আর্জেন্টিনাকে এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন লিওনেল মেসি। মিসরের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এই রূপকথার জয়ের পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

উত্তর আমেরিকার মাটিতে চলমান এই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে একপর্যায়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর দুর্দান্ত গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ প্রায় নিজেদের পকেটে পুরে ফেলেছিল মিসর। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় এত দেরিতে দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকে এর আগে কোনো দল ম্যাচ জিততে পারেনি। কিন্তু এরপরই শুরু হয় আর্জেন্টিনার সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। প্রথমে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এক গোল শোধ করে ব্যবধান কমান। এরপর ম্যাচের ৮৩ মিনিটে জাদুকরী এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আর অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের বুলেট গতির হেড মিসরের রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে।

এই ম্যাচ জয়ের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন লিওনেল মেসি, যিনি মাঠের পারফরম্যান্সে ফিরিয়ে এনেছিলেন ১৯৮৬ সালের মারাদোনাকে। পরিসংখ্যানবিষয়ক সংস্থা অপটার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি অন্তত ৫টি ড্রিবলিং সম্পন্ন করা এবং ৫টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করার কীর্তি সর্বশেষ দেখিয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। দীর্ঘ ৪০ বছর পর মিসরের বিপক্ষে সেই একই কীর্তি গড়ে ফুটবল হ্যান্ড অব গড খ্যাত ম্যারাডোনার পাশে নিজের নাম লেখালেন মেসি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবায়েরের কাছে একটি পেনাল্টি মিস করলেও, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি মেসি। চাপের মুখে নিজেকে শান্ত রেখে দলকে পথ দেখিয়েছেন সামনে থেকে। এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল আটে। বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের আটটি গোল করার নজির ১৯৭০ সালের পর এই প্রথম। সেবার জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলার প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১০টি গোল করেছিলেন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা আবারও প্রমাণ করলেন, কঠিনতম মুহূর্তে কীভাবে একা হাতে পুরো দেশের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com